গঙ্গা নীরবে বইছে আর সইছে অপমান

“দীর্ঘদিন ধরে যে নদীটি হাজার বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে বেঁচে আছে,সে কি কেবল দূষণের জন্য ধুঁকে ধুঁকে মরনের দিকে বইবে বলে?”
প্রাচীন ইতিহাস ও বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থ থেকে জানা যায় বহু প্রাচীন যুগ আগে থেকে”গঙ্গা কে মাতৃ রূপে পূজা করা হয়”। সেই মা নিরবে কাঁদছে নিজের সন্তানদের দোষে।দিনে দিনে দূষণের তীব্রতা গ্রাস করছে সমগ্র পরিবেশকে। তার উপর পৃথিবীর ফুসফুস আমাজন নিঃশেষিত।অ্যামাজন এর প্রভাব পরিবেশের উপর পড়বে সে বিষয়ে নিশ্চিত মতামত দান করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। তেমনি ভারতবর্ষের প্রান ভ্রমরা গঙ্গা আজ দূষিত। নিরবে বইছে আর সইছে অপমান। বিস্তীর্ণ সমত লের বুক চিরে গঙ্গা আপন মনে বয়ে চলেছে।হিমালয় গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। ভারতবর্ষ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত সমগ্র বিশ্বের দরবারে।এই গঙ্গা ভারতবর্ষকে করে তুলেছে পুণ্যবতী লাবণ্যময়ী।নদীমাতৃক দেশ ভারতবর্ষকে কৃষিকাজে সমৃদ্ধ করে তুলেছে।গঙ্গা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম পবিত্র নদীর নাম। সেই গঙ্গা দূষণের শিরোনাম নিয়ে বেঁচে রয়েছে। আজ গঙ্গার বুকে দূষণের ভয়ঙ্কর ডঙ্কা বাজছে। এর জন্য কি আমরা নিজেরাই দায়ী নই? তবে বর্তমান পরিস্থিতি তে সামাজিক ব্যবস্থার দিকে নজর দিলে দেখতে পাই নিজেদের “জন্মদাতা মায়ের সঙ্গে যেমন দুর্ব্যবহার করি সেখানে গঙ্গা তো কোন ছার”। কিন্তু একথা ভুলে গেলে চলবে না”গঙ্গা না বাসলে ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবী।হিন্দু ধর্মের প্রাচীন গ্রন্থ ঋগ্বেদ পৌরাণিক সাহিত্যে রয়েছে গঙ্গা নদী সম্পর্কে নানান কাহিনী ও গল্প। সারা ভারতের প্রাণ বিন্দু সে গঙ্গা দূষণের শিকার।
“ভলগা থেকে গঙ্গা”বইটি আর্য সংস্কৃতির এক অমূল্য ভান্ডার।রাহুল সাংকৃত্যায়নের এই বইটিতে ফিরে এসেছে বহুযুগ আগের সভ্যতার নদী গুলির কথা।বরফ গলা সেই নদী দূষণের শিকার আরে দূষণের হাত থেকে গঙ্গা কে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে “বিশ্ব ব্যাংক”।এই পরিকল্পনার নাম দেয়া হয়েছে “মিশন গঙ্গা”।১৯৮৫সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে নেওয়া হয়েছিল গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান। গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান এর সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিকে দেয়া হয়েছিল বাস্তবায়নের কাজ। নতুন দিল্লি কে দেওয়া হয়েছিল গঙ্গা দূষণের জন্য ২৪ বছরে ৯১৬ কোটি টাকা। কিন্তু সেই অ্যাকশন প্ল্যানে মেলেনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
পরিসরে,যে গঙ্গা তার বুক নিঃশেষিত করে অবারিত ধারা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে প্রাণ কোটি কোটি প্রাণ। সেই গঙ্গার বুকে নিক্ষেপ করছি পরমাণুর বিষাক্ত পয়জন। নদী তার আপন গতিতে বয়ে বেড়াবে সেটাই স্বাভাবিক। তার নিসঙ্গ চলার পথে সঙ্গী শুধু বজ্র পদার্থ।তার চলার পথে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন বজ্র নিজ বক্ষে ধারণ করে বেড়ায়। নদীর জল দূষণের পিছনে বড্ড নিয়মিত হচ্ছে অপরিশোধিত বজ্র পদার্থ। ইদানিং আবার বর্জ্য পদার্থের যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য। নদীর জল ৮৫ শতাংশ দূষণের কারণ হলো বজ্র পদার্থ দূষণ সৃষ্টিকারী।বাকি দ্রব্যের যোগান দেয় কলকারখানা,কৃষিতে সার,অন্যান্য কঠিন বজ্র মৃত পশু পাখির দেহ থেকে।তবে গঙ্গা দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে প্রতিমা বিসর্জন কে ধরা হচ্ছে।কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে,বিসর্জনের আগে থেকেই গঙ্গার জল দূষণ ইউনেস্কোর নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। তাছাড়া ছট পূজার জন্য জলে ফেলা হাজার মেট্রিকটন কলা ফুল-বেলপাতা সবমিলিয়ে ৩০ দিনের ব্যবধানে চার চারটি বড় উৎসব গভীর সংকটে ফেলেছে গঙ্গাকে।আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জলের ভূমিকা বিদ্যমান। তাই সেই জল দূষণ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।