বৌঠানের সুইসাইড নোটে

লেখিকা- মল্লিকা চ্যাটার্জী

মনের গভীরে শিখর থেকে পাতা পর্যন্ত সবকিছুকে একবারের জন্য নাড়িয়ে দিয়ে হঠাৎ করে মনের মাটিতে আবার টুপ করে খসে পড়ে সে অনুভূতিগুলো সেগুলোই মর্মস্পর্শী। আমার মনকে এমনই স্পর্শ করেছিল একটি নোট না কোন কবিতা, না কোন উপন্যাস সহজ সরল কিছু স্বীকারোক্তি না বলা অভিমান আর যন্ত্রণা। ‘নোট’ সুইসাইড-নোট মানে কাদম্বরীর সুইসাইড নোট। আকাশে ঘুরে বেড়ানো বিক্ষিপ্ত অগোছালো ভাবনা মেঘের মতো আমার মনেও চিন্তার অভাব হয়না। সন্ধ্যে নামার আগে পাখিগুলো ঘরে যখন ফেরে ভাবনাগুলো তখন অবধি ইহ জগতেই ছিল। হঠাৎ চাঁদের আলো ছাদের কার্নিশে পড়তেই কে যেন খোলা চুলে তার পরম প্রিয় মানুষটাকে কিছু আবদার করছে। স্পষ্ট শুনলাম আবদার বুঝলাম যে সে রবির নতুন বৌঠান। আকাশে রবির হারিয়ে যাওয়ার পর সে তার বৌঠান এর সাথে প্রেমে মত্ত। ওদের তৈরি নন্দন তাঁর স্বর্গীয় অনুভূতি। প্রথম স্পর্শ, প্রথম চুম্বন আমাকে ছুঁয়েছে বারবার। মেয়েটার বুক ভরা অভিমানের মাঝে এক ওষ্ঠ অধরের ব্যবধানের কারণটা রবি। সেই বৃষ্টিতে সারা শরীর ভিজে ওঠা, কবিতা শোনানো প্রত্যেকটা মুহূর্তের সাক্ষী করেছি নিজেকে। সহস্ত্র বার ভাবনার সেই মুহূর্তগুলো পেয়েছি। প্রেমের অবাধ্যতা আর লোক জেনে যাবার অচেতনতায় যে শিহরণ কাদম্বরী অনুভব করেছিল তার প্রত্যেকটা শিকে ভাগ আমাকেও শিহরিত করে। প্রেমের অভিমানে মৃত্যু, বেঁচেই গেছে সে। সেই যেদিন দেখল রবির কবিতার অন্য কারো ‘স্তন’ ধরে রাখতে পারেনি সেদিন। সে অভিমান বয়ে বেড়ানো বড় যন্ত্রণার, সেই বুক ফাটা কান্না আমি শুনেছি। কালো মেয়েটার কালো ঢেকে যে রবি এসেছিল সে সেদিন অস্তাচলের পথে। পরিণাম মৃত্যু_
কিন্তু আজ? সব ভুলে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবার তারা এক। কালো চুল খুলে দিয়েছে আর তার ঠাকুরপো বিদিশার নেশায় পথ হারিয়েছে। শত বছরের ব্যবধানে সমস্ত রাগ অভিমান কে ভুলতে বলছে। তোমাকেই খুঁজেছি নতুন বৌঠান জীবনের শেষ মুহূর্তেও তোমাকেই খুঁজেছি। যখন বুঝেছি জীবিত হয়ে সম্ভব না তোমার প্রাণের বসন্ত কে আর অনুভব করা, তখন চেয়েছি মৃত্যু। সেই কালো অন্ধকারে তোমার গহণ, তোমার ভালোবাসা, সেই কালো কৃষ্ণ কালো তে ডুব দিয়েছি তোমার জন্য। কি সাধ্য আমার আমি তোমাকে ছেড়ে যাই? প্রেম যদি হয় অনন্ত অভিমান ও অনন্ত। প্রেম আসে নিঃশব্দে আর অভিমান গুলো শব্দ করে, সেই নিঃশব্দ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিয়ে যায়।