নতুন করে প্রেম

লেখক – মানবেশ মিদ্দার

বৃষ্টি! তুই আছিস ভালো ঘুম পাহাড়ী দেশে। 
পাহাড় তোকে মাথায় রাখে ভীষণ ভালোবেসে। 

শিলার বুকে ঝর্ণা সাজাস, ফোটাস রঙীন ফুল,
সবুজ জাগাস পাহাড় জুড়ে এলিয়ে শ্রাবণ চুল।

কি ভাবছিস, থাকবি হেথা, শহর, মরু, ফেলে?
পদ্ম-দীঘি, খুকুর কথা, এ সব কিছু ভুলে?

তিন কন্যের বিয়ের হলো শিব ঠাকুরের সাথে,
মনে পড়ে সে রূপকথা, কোন সে আষাঢ় রাতে?

ঊশ্রী নদীর বান ডেকেছে, জল থই থই কুলে।
কিশলয়ের সেই পাতাটা, গেছিস বুঝি ভুলে?

ইচ্ছে ছিলো দেখবো তোকে গিরি-গুহায় এসে।
মেঘের ফাঁকে থাকিস কোথায়, মেঘ-মেদুর বেশে। 

মেয়েটা তোর দারুণ চপল তাথই তাথই ছোটে।
‘শ্রাবণ ঘণ বাদল মোহে’ পাগল হয়ে ওঠে। 

কোন মেয়েটা, বুঝলি না তো? তোর কাছে সে সস্তা।
তোরই ছোট্টো খেপি মেয়ে পাগল ব্যাকুল তিস্তা। 

আচ্ছা বৃষ্টি, বলতো দেখি পাহাড় কখন জাগে?
কি বললি? পাগলা কবি যখন চেয়ে থাকে! 

না না না, গভীর রাতে পাহাড় জেগে যায়। 
যখন তোর নুপুর পরা পায়ের ছোঁয়া পায়। 

বন-পাহাড়ি সবুজ রঙিন টাপুর টুপুর নাচ।
বৃষ্টি আমার বাঁশের বাঁশি ভিজিয়ে দিয়ে যাস।

পাইন-বনে মল্লারে তুই কাকে শোনাস গান? 
ইচ্ছে করে শোনাই তোকে আমার বাঁশির তান।

বৃষ্টি! তোর রঙ-তুলিতে জল ছোপ ছোপ ছবি। 
বৃষ্টি তোর মেঘের ভেলায় আমায় নিয়ে যাবি? 

বৃষ্টি! তুই পাহাড়-চূড়োয় বাঁধলি কবে বাসা? 
বৃষ্টি! তোকে ভালোবেসেই ঘরের বাইরে আসা।

সাঁওতালি বৃষ্টি ফোঁটা, ওরে আমার মেম। 
তোরই সাথে পাহাড় চূড়োয় নতুন করে প্রেম।