কেমন হতে চলেছে এবারের দুর্গোৎসব কলমে: কুহেলী বিশ্বাস

কুহেলী বিশ্বাস একজন শিক্ষিকা। নৈতিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত বই “বাণী বিচিত্রা”। বেলডাঙ্গা, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা তিনি।

বিশ্ব বর্তমানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে দুর্যোগময় পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে। ডিসেম্বর ২০১৯ এর শেষ থেকে বিগত ৫ মাস যাবৎ করোনা ভাইরাস মহামারি পুরো বিশ্বকে টালমাটাল অবস্থায় নিয়ে এসেছে। অর্থনীতি, রাজনীতি, কর্মচাঞ্চল্য সবকিছু বর্তমানে স্থবির। সারা বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যস্ত।ক্রমেই বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কোনওভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে সংক্রমণ। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নিষিদ্ধ জমায়েত।


এ দিকে দুর্গাপুজো আসতে আর বেশিদিন বাকি নেই। এমতাবস্থায় কী ভাবে হবে এত বড় উৎসব! তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না ছোট থেকে বড় বাজেটের পুজো উদ্যোক্তারা। অনেক পুজো কমিটিই বাজেট কাটছাঁট করে শুধু পুজোর কথা ভাবছে। কোনও কমিটি আবার থিমের লড়াই ছেড়ে, একেবারেই ছোট করে পুজো সারবেন, এমনই পরিকল্পনা। কিন্তু, পুজো হবেই।

তবে কিছু গাইডলাইন মেনে এবার পূজা পরিকল্পনা করা হচ্ছে।যেমন,

১।বর্তমান পরিস্থিতিতে যথাসম্ভব বাজেট কমিয়ে অনাড়ম্বর, স্নিগ্ধ-সুন্দর পুজো দর্শকদের উপহার দিতে হবে। বাকি অর্থ জনহিতকর কাজে ব্যবহার করতে পারে পুজো কমিটিগুলি।

২।প্যান্ডেল ও প্রতিমার উচ্চতা খুব বেশি না হয়। নিজ পুরসভাকে অনুরোধ করে প্রতিদিন যাতে অন্তত একবার পুরো প্যান্ডেল ও প্রতিমা স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা যায়।

৩।ঠাকুরের ভোগ নিবেদনে গোটা ফল দিতে হবে। পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পুজো, সিঁদুর খেলার সময় সামাজিক দূরত্ব মানা বাধ্যতামূলক।

৪।শিল্পী ও কর্মকর্তারা যেন এমন মণ্ডপ তৈরি করেন, যাতে দর্শক বাইরে থেকেই ভালভাবে প্রতিমা দর্শন করতে পারেন মণ্ডপে না প্রবেশ করেই। অন্যদিকে, প্যান্ডেলের প্রবেশ পথ ব্যারিকেড দিয়ে যতটা সম্ভব দীর্ঘ করতে হবে, যাতে দর্শনার্থীরা অনেকটা পথ অতিক্রম করে মণ্ডপে পৌঁছন। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে। পাশাপাশি, মূল প্রবেশ পথে ও প্যান্ডেলের ভিতর দায়িত্বরত প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

৫।স্বেচ্ছাসেবকদের খেয়াল রাখতে হবে যাতে দর্শকদের মুখ অবশ্যই মাস্কে ঢাকা থাকে। প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথে তাঁদের হাতে যদি স্যানিটাইজার দেওয়া যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মূল প্রবেশ পথে একাধিক থার্মাল গান রাখতে হবে। জ্বর নিয়ে কোনও ব্যক্তিকে প্যান্ডেলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, যাদের পক্ষে সম্ভব তারা পুজোর দিনগুলিতে স্যানিটাইজার স্প্রে করতে পারেন দর্শকদের লাইনের ওপর।

৬।প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দফায় দফার লোক ঢোকাতে হবে। একসঙ্গে বহু দর্শককে মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। একবারে সর্বাধিক ২৫ জনকে প্যান্ডেলে প্রবেশ করানো যাবে।

৭।যে সব মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় স্টল হয়, সেখানে দুটি স্টলের মধ্যে অন্তত ৩-৪ ফুটের ব্যবধান রাখতে হবে। স্টলের মালিকদের রেডিমেড খাবার বিক্রিতে জোর দিতে। বসিয়ে লোক খাওয়ানো যাবে না।

৮।প্রতিযোগিতার বিচারের সময় বিশেষ করে ফাইনাল রাউন্ডে ১৫ জনের বেশি বিচারক বা এজেন্সির টিমকে প্যান্ডেলের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। প্রতিটি বিচারকে প্যান্ডেলে থার্মাল স্ক্রিনিং-এর পরে ঢুকতে হবে। জ্বর নিয়ে প্যান্ডেলে ঢোকা যাবে না।

৯।প্যান্ডেল থেকে লাইট লাগানোর কর্মীদের স্বাস্থ্য সঠিক রাখার দায়িত্ব পুজো কমিটিকে নিতে হবে। তার জন্য থার্মাল চেকিং থেকে বিভিন্ন প্রতিষেধক পুজো কমিটিকে নিশ্চিত করতে হবে।

১০। প্রতিমা খুব বেশি বড় না করে ছোট করতে হবে তাতে অল্প কয়েকজন ঠাকুর আনা বা বিসর্জনের সময় বের করতে পারে।

error: Content is protected !!