গরু পাচার কাণ্ডে বিএসএফ কর্তাকে গ্রেফতার

একতারা বাংলা, নিউজ ডেস্কঃ

এনামুলের পর বিএসএফ কর্তা সতীশ কুমার। ম্যারাথন জেরার পর গরু পাচার কাণ্ডে সতীশ কুমারকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআই। তাঁকে ডাকা হয়েছিল নিজাম প্যালেসে। সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত তাঁকে জেরা করার পর গ্রেফতার করা হয়।
২০১৫-র শেষ দিক থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মালদহের ৩৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট ছিলেন এই সতীশ কুমার। তাঁর অধীনে ছিল চার কোম্পানি।

যার মধ্যে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ রয়েছে। তদন্তকারীরা দেখেছেন, ওই সময়ে ২০,০০০ বেশি গরু আটক করে ছিল বিএসএফ। এত গরু আটক হলেও একজন পাচারকারী বা কোনও গাড়ি গ্রেপ্তার ও আটক হয়নি। এই সন্দেহে তদন্তের একাধিক পথ খোলা রেখে তদন্ত চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। শুধু তাই নয় কলমের জোরে গরুকে বাছুর বানিয়ে দেওয়া হত। সরকারকে ফাঁকি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চলত গরু পাচারের কারবার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই জানতে পেরেছে, গরু পাচারের মূল অভিযুক্তর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে কাজে সহযোগিতা করতেন এই বিএসএফ-কর্তা। সঙ্গে ছিলেন কাস্টমসের বহু আধিকারিক।

কিভাবে চলত এই কারবার? জানা যাচ্ছে, কলমের ম্যাজিকে গরু হয়ে যেত বাছুর। তারপর বাছুর হওয়া গবাদি পশুকে তোলা হত নিলামে। নিলামে গরু কম দামে কিনে নিত এনামুল হকের গোষ্ঠীরা। নিলামে কেনা গরু ফের সীমান্ত পেরিয়ে পাচার হত বাংলাদেশে। এই কাজে গরু প্রতি ২ হাজার টাকা ও ৫০০ টাকা কাস্টমসের জন্য বরাদ্দ রাখা হত বলে জানতে পারছেন গোয়েন্দারা। ধৃত বিএসএফ কর্তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে সিবিআই।

শুধু সতীশ কুমারই নয়, সিবিআই-এর নজরে বিএসএফ ও শুল্ক দফতরের আরও ১২ আধিকারিক। এদের মধ্যে ৭ জন বিএসএফ আধিকারিক, ৫ জন রয়েছেন কাস্টমসে। এছাড়া সিবিআইয়ের এফআইআরে উঠে এসেছে এনামুল হক, আনারুল শেখ ও মহম্মদ গোলাম মুস্তাফা নামে তিনজন গরু পাচারকারীর নাম।

error: Content is protected !!