স্পন্সর ঝামেলায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

আবারও লাল-হলুদ শিবিরে অশান্তি। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে এতদিন পর্যন্ত চুক্তি ছিল শ্রী সিমেন্টের। কিন্তু এবার সেই চুক্তি শেষ হতে চলেছে আর তাই নিয়েই শুরু হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের নতুন অশান্তি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টররূপে সামনে এসেছিলেন শ্রী সিমেন্ট কোম্পানি। ইস্টবেঙ্গলের বিভিন্ন কাজ করার জন্য ছয় জনের সঙ্গে ওই কোম্পানি চুক্তিবদ্ধ ছিল।

কিন্তু সেই চুক্তি আজকে শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল তা মানতে নারাজ। আর তাই এই ঝামেলা। অতএব এই ঝামেলা এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাঠগড়ায় পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রশাসনকে ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানী শ্রী সিমেন্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হরিমোহন বাঙুর একটি চিঠি দিয়েছেন।

এবং সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সামনে যে কথা হয়েছিল এবং যে চুক্তি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে, সেই চুক্তিকেই তাঁরা চূড়ান্ত হিসেবে মানবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, লাল-হলুদের প্রশাসনিক কর্তারা সেই চুক্তিকে না মানতে চেয়ে কার্যত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অসম্মান করছেন।

গতকাল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকেও একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল লগ্নিকারী সংস্থাকে এবং সেখানে টার্মশিট ও মূল চুক্তিপত্রের মধ্যে অসংগতি আছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই চিঠির উত্তরে আবারও নতুন চিঠি পাঠানো হয়েছে লগ্নিকারী সংস্থার পক্ষ থেকে। এবং সেখানে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামনে টার্মশিটের ভিত্তিতেই মূল চুক্তিপত্র হয়েছিল।

প্রসঙ্গত জানা গিয়েছে, ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টর কোম্পানি শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ক্লাব প্রশাসনের ওপর চরম ক্ষুব্ধ। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, বারবার আলোচনায় বসতে চেয়ে ক্লাব কি প্রমাণ করতে চাইছে? পাশাপাশি তাঁরা আরও জানিয়েছেন সইসাবুদ হলে দল গঠন হবে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে যেভাবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই ক্লাবের সদস্য ও সমর্থকদের মধ্যেও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। অনেকেই শীর্ষ কর্তাদের গাফিলতিকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন এবং তাঁদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।

তবে দুই পক্ষই আইনজীবী সহকারে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। ইস্টবেঙ্গলের সাথে কোনরকম আলোচনা না চাইলেও শ্রী সিমেন্ট কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কিন্তু পুরো বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিয়ে আসতে চান বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত দীর্ঘদিনের ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে যে চূড়ান্ত অশান্তি চলছে, তাতে খেলার ওপর প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত ইস্টবেঙ্গল এবং শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে চরম বিরোধিতা থামাতে মুখ্যমন্ত্রী কি আদৌ কোনো বড় ভূমিকা গ্রহণ করবেন? সেটাই এখন দেখার।