প্রশাসনিক পদে রদবদল ঘটালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

রাজ্যে বর্তমানে যখন আইপিএস সংক্রান্ত তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক সেসময় প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখায় এবার স্পেশাল দায়িত্বে এলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রীনা মিত্র। সম্প্রতি রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মুখপাত্র থেকে দুর্নীতি দমন শাখার নতুন অফিসার হিসেবে যোগ দিলেন এই আইপিএস অফিসার। প্রসঙ্গত জানা জায়, এই আইপিএস অফিসার কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের স্পেশাল সেক্রেটারি ছিলেন। 2019 এ এই আইপিএস অফিসার অবসর গ্রহণ করেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বাংলার বিশেষ দায়িত্ব দেন রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে নিয়োগ করে।

সে সময় রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন প্রাক্তন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ। তবে সুরজিৎ কর পুরকায়স্থের মেয়াদ সম্পন্ন হওয়ায় তাঁকে সিভিল সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মুখপাত্র পদটি বিলুপ্ত করে দিল এবার রাজ্য সরকার। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অন্যদিকে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়ে চলেছেন ক্রমাগত কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি মানা হবেনা।

সেক্ষেত্রে সদ্য হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জেরে যেভাবে বাঁধ ভেঙে পড়েছে, কিংবা আম্ফানের পর বনসৃজনের কাজে দেওয়া গাছের হদিস না পাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন তদন্ত হবার। আর সেক্ষেত্রে মনে করা হচ্ছে রীনা মিত্রর দুর্নীতি দমন শাখার নতুন ওএসডি হওয়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। রাজ্যের নিরাপত্তা কমিশন নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। গতকাল রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে শুভেন্দু অধিকারী এ ব্যাপারে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে এখনো পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা কমিশন নেই।

তিনি বিরোধী দলনেতা হিসেবে যোগদান করলেও কমিশনের সদস্য হওয়ার জন্য এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে কোনো প্রস্তাব আসেনি। প্রসঙ্গত জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ইতিমধ্যেই 27 টি রাজ্যের নিরাপত্তা কমিশন গঠিত হয়েছে। শুধুমাত্র উড়িষ্যা এবং জম্মু-কাশ্মীর এই কমিশন গঠন করেনি। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা কমিশন গঠন হলেও তাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনেকাংশেই মানা হয়নি। আর সে ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তাঁদের মতে, নিরাপত্তা কমিশনের কমিটিতে সরকারি প্রভাব সুস্পষ্ট।

এতদিন পর্যন্ত রাজ্যে নিরাপত্তা কমিশন নিয়ে কোন কথাই ওঠেনি। এমনকি যখন কংগ্রেস এ রাজ্যের মুখ্য বিরোধী দল ছিল, সে সময় দলনেতা আব্দুল মান্নানকেও কখনও এই নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি। তবে এবার বিরোধীদলের মুখ পাল্টে গিয়েছে এবং শুরু থেকেই তাই বিজেপি তৃণমূলকে কোণঠাসা করার ব্যাপারে আগুয়ান। আর সেকারণেই প্রথম থেকেই নিরাপত্তা কমিশনের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টায় গেরুয়া শিবির বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপাতত নিরাপত্তা কমিশন নিয়ে কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, সেদিকে নজর থাকবে সবার।