অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর ব্যাবহারে মুগ্ধ মুকুল পুত্র

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

গতকালই সংবাদ শিরোনামে এসেছিল বিরোধী দল বিজেপির অন্যতম নেতা মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সাক্ষাৎ নিয়েই শুরু হয়ে যায় ব্যাপক জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি আগামী দিনে মুকুল পরিবারসহ যোগ দিতে চলেছে তৃণমূলে? তড়িঘড়ি এরপরেই হাসপাতালে এসে পৌঁছান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সাম্প্রতিককালে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় এমন কিছু সোশ্যাল মেসেজ দিয়েছেন, যেখান থেকে বোঝা যাচ্ছে দলের সঙ্গে তিনি দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। মুকুল রায় তো বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছেন। ভোটে জেতার পরেও তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি।

তাই সব কিছু হিসাব-নিকাশ করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুল পত্নীকে দেখতে যাওয়া দুইয়ে দুইয়ে চার হয়েছে। প্রসঙ্গত জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে যাবার পরেই হাসপাতালে পৌঁছান রাজ্য বিজেপির সভাপতি। সেখানে কৃষ্ণা রায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন। জানা গিয়েছে, মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা রায় করোনা আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ইএম বাইপাসের পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। যদিও বর্তমানে তিনি করোনামুক্ত, কিন্তু তা সত্বেও তাঁর শরীরে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সে কারণেই তাঁকে একমো সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে খবর। এই খবর পেয়ে গতকাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছান মুকুল রায়ের স্ত্রীর খোঁজখবর নিতে। যদিও তখন হাসপাতালে মুকুল রায় ছিলেননা, তবে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় ছিলেন। তাঁর সঙ্গেই অভিষেক কথা বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত খোঁজখবর নেন। অন্যদিকে শোনা যাচ্ছিল, মুকুল রায় বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়া সত্বেও তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতার কথা জেনেও বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা বিশেষ কেউ তাঁর খোঁজ নেননি।

শুভ্রাংশু রায় নিজেও এই ব্যাপারটি নিয়ে ঘনিষ্ঠ মহলে যথেষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। আর তারপরেই বিজেপির পক্ষ থেকে একের পর এক পদক্ষেপ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেরিয়ে যাওয়ার পরে সেখানে পৌঁছান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এমনকি শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত মুকুল রায়কে ফোন করে তাঁর স্ত্রীর সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে যাবার পরেই কেন তোড়জোড় শুরু হলো বিজেপির অন্দরে হাসপাতলে পৌঁছানোর? সেক্ষেত্রে কি ড্যামেজ কন্ট্রোল অন্যতম কারণ?

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই শুভ্রাংশু রায়ের বিরূপ কথাবার্তা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মায়ের খোঁজ নেওয়া ও শুভ্রাংশুর সাথে কথোপকথনকে দুইয়ে দুইয়ে চার করেছে। যদিও দলবদল নিয়ে এখন মুকুল রায় কিংবা শুভ্রাংশু রায় কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি এ ব্যাপারে। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে হাসপাতালে মুকুল রায়ের স্ত্রীকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখতে যাওয়াকে শুধুমাত্র সৌজন্যবোধ বলে দাবি করা হয়েছে। আপাতত সবকিছুর পেছনে নতুন কোন সমীকরণ গড়ে উঠছে কিনা সেকথা সময় বলবে।