টেলিভিশনে বিতর্কিত মন্তব্য থেকে রাজ্য যুব সভাপতি, সায়নী ঘোষের অপূর্ব উত্থান

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ডিবেটে অংশ গ্রহণ এবং তারপর থেকেই কার্যত খবরের শিরোনামে উঠে আসতে দেখা যায় বিশিষ্ট অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। ধীরে ধীরে গেরুয়া শিবিরের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান তিনি। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তাকে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাপটের সঙ্গে প্রথম দিন থেকেই নিজের জয় নিশ্চিত করতে প্রচারে অভিনবত্ব আনার পাশাপাশি তড়িৎগতিতে মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে শুরু করেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু শেষপর্যন্ত জয়লাভ করতে পারেননি তিনি।

আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে সায়নী ঘোষকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল। স্বাভাবিক ভাবেই এরপর থেকেই আসানসোল দক্ষিণের একাংশ সায়নী ঘোষকে যাতে প্রশাসনিক পদ দিয়ে সেই আসানসোলে ফিরিয়ে আনা যায়, তার জন্য আবেদন করতে শুরু করেন। এমনকি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও সায়নী ঘোষ “স্ট্রিট ফাইটার” বলে আখ্যা দিতে শোনা গিয়েছিল। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অভিনেতা, অভিনেত্রীরা রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ের পর যদি পরাজিত হন, তাহলে তাদের আর সেভাবে রাজনীতিতে থাকতে দেখা যায় না।

কিন্তু সেদিক থেকে সায়নী ঘোষ যে ব্যতিক্রম, তা প্রমাণ হয়ে গেল। অতীতে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে মনে পড়ছে না তৃণমূলের কারোরই। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকা যুব তৃনমূলের দায়িত্ব দেওয়া হল আসানসোল দক্ষিণের পরাজিত প্রার্থী তথা বিশিষ্ট অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। আর অভিনয় জগৎ থেকে তড়িৎ গতিতে শাসকদলের শীর্ষপদে সায়নী ঘোষের উত্থান রীতিমত চমকে দিয়েছে অনেককে। এদিকে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রীতিমত কাজ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে উঠলেন সায়নী ঘোষ। পাশাপাশি এতদিন যুব তৃনমূলের যে সমস্যা সবথেকে বড় প্রকট হয়ে উঠেছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, সেই সমস্যা নিরসনের জন্য বড় বার্তা দিতে দেখা গেল তাকে।

বলা বাহুল্য, শনিবার তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে একাধিক রদবদল করা হয়। আগে থেকেই আভাস দেওয়া হয়েছিল, এবার সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্য যুব তৃনমূলের সভাপতি থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় যে সদ্য রাজনীতিতে আসা বিশিষ্ট অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। কিন্তু সেই অকল্পনীয় বিষয়টিই করে দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক করে রাজ্য যুব তৃনমূলের সভানেত্রী করা হল সায়নী ঘোষকে। একাংশ বলছেন, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই যুব সংগঠনের যেমন প্রথম মহিলা কাউকে দায়িত্ব দিলেন, ঠিক তেমনই বুঝিয়ে দিলেন, সায়নী ঘোষের রাজনৈতিক দক্ষতার ভিত্তিতে তাকে জায়গা দিল দল।

তবে সরাসরি রাজনীতিতে আসা প্রার্থীকে পরাজিত হয়ে যাওয়া সায়নী ঘোষকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তিনি তা ঠিকমত সামলাতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। তবে দায়িত্ব পাওয়ার পরই অভয় বার্তা দিতে দেখা গেল সায়নী ঘোষকে। এদিন তিনি বলেন, “সব সমস্যা মিটে যাবে। আমি এসে গেছি তো।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সায়নী ঘোষ যে প্রতিবাদী, তা বারবার প্রমাণ হয়েছে। এক্ষেত্রে নানা টকশোর মধ্যে দিয়ে তার মন্তব্য কার্যত খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, প্রচারেও তার তড়িৎগতিতে উত্থান এবং মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া, প্রতিদিন খবরের কাগজে জায়গা করে নিয়েছে। আর তাই এহেন সায়নী ঘোষকে যুব সংগঠনের দায়িত্ব দিয়ে যুবদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুব সংগঠনের দায়িত্বে থাকার সময় একাধিকবার মাদার বনাম যুবর মধ্যে দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে।

কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার সাথে সাথেই সেই ব্যাপারে অভয় বার্তা দিয়ে সমস্ত কিছু মিটে যাবে বলে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন সায়নী ঘোষ। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন রাজনীতিতে কিছুটা নবাগত সায়নী ঘোষ শাসকদলের যুব সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজনৈতিক কূটকচালি এবং নানা সমস্যা নিরসনে কতটা সফল হন, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।