আশাতীত ভাবে কমছে সংক্রমণের হার, লকডাউন সফল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

প্রথম ঢেউ যখন ভারতবর্ষ এবং বাংলাতে প্রবেশ করেছিল, তখন তা আটকানোর জন্য লকডাউন সহ একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে কোনোমতেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আয়ত্তের মধ্যে আনা যাচ্ছিল না। ধীরে ধীরে অনেক কষ্টে তা আয়ত্তের মধ্যে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ প্রবেশ করার প্রথম থেকেই যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল, তাতে করা লকডাউন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলেই মনে করেছিলেন সকলে। তবে হালকার ওপর দিয়ে বিধি নিষেধ জারি করে করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে ধীরে ধীরে মিলিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে বাংলা।

স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে, আশ্চর্যজনক ভাবে নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। যত দিন যাচ্ছে, ততই বাংলাতে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই পরিসংখ্যান রীতিমত আশার আলো তৈরি করেছে গোটা রাজ্যজুড়ে। দ্রুত করোনা ভাইরাসকে সম্পূর্ণরূপে বিলীন করে দেওয়া সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, রবিবার স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে করোনা নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়। যেখানে জানানো হয়, গত 24 ঘন্টায় রাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন 7 হাজার 2 জন। অর্থাৎ যে সংখ্যাটা এতদিন অনেকটাই বেশি ছিল, ধীরে ধীরে তা দৈনিক সংক্রমনের দিক থেকে কমে আসতে শুরু করেছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করলেও, মৃত্যুর সংখ্যা ভাবাচ্ছে রাজ্যবাসীকে।

জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে শতাধিক মানুষের। অর্থ্যৎ আক্রান্তের সংখ্যা নিচের দিকে নামতে শুরু করলেও, এখন মৃত্যুর সংখ্যা বাংলার কপালে কিছুটা হলেও চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। একাংশ বলছেন, ধীরে ধীরে এই মৃত্যুর সংখ্যাও কমতে শুরু করবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতবর্ষে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ প্রবেশ করার পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্য লকডাউন বিধি-নিষেধ জারি করতে শুরু করে। তবে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করার কারণে এরকম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরই করোনা ভাইরাস আটকানো যে তাদের কাছে প্রধান লক্ষ্য, তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর এই পরিস্থিতিতে একগুচ্ছ বিধি-নিষেধ জারি করে রাজ্য সরকার। আর সেই বিধিনিষেধের ফলাফল যে যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক, তা করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত নিচের দিকে নামতে শুরু করায় কার্যত প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা কেন এখনও পর্যন্ত একশোর গন্ডির নিচে নামছে না, এখন সেটাই অনেকের কাছে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন নামতে শুরু করেছে, ঠিক তেমনই স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যুর সংখ্যাও নামতে শুরু করবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে প্রথম ঢেউয়ের মত দ্বিতীয় ঢেউকেও বিলীন করতে সচেষ্ট রাজ্য।