রাজ্য কে চাপে ফেলতে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে ১৮বিজেপি সাংসদ রাষ্ট্রপতি র কে চিঠি দিতে চলেছেন

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল। তবে এবার লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হয়েছিল সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বিজেপি অবশ্য 200 আসনের লক্ষ্যমাত্রা রেখেও 77 এই তাঁদের লড়াই শেষ করতে পেরেছে।

কিন্তু নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে বিজেপি সরব হয়েছে রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে আর এবার রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি লিখতে চলেছে রাজ্যের 18 জন বিজেপি সাংসদ। আর এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।

বিজেপি রাজ্যে নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই ক্রমাগত রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকেই ইঙ্গিত দিয়ে চলেছে। কখনো বিজেপি কর্মীদের দেখতে দিল্লি থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক ছুটে এসেছেন, আবার কখনো রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরকে বিজেপি নেতাদের পাশে নিয়ে হিংসা পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে। তবে সর্বক্ষেত্রেই বিজেপির নেতারা রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। অন্যদিকে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের হাতে। সরাসরি তাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ সম্ভব নয়। অতএব উপায় একমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির তরফ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত এবং রাজনৈতিক হিংসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত সোমবার থেকে দিল্লিতে রয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও আকারে-ইঙ্গিতে রাজ্যে 356 ধারা জারির কথা বলেছেন। একইসাথে গতকাল রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে হেস্টিংসে আর সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক হিংসার বিরুদ্ধে এবার পথে নামবে বিজেপি। রাজ্য তৃণমূল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্নায় নামছে রাজ্য বিজেপি।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের 18 জন বিজেপি সাংসদ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি লিখে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি আবেদন জানাতে চলেছেন বলে খবর। এ প্রসঙ্গে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, ভোট-পরবর্তী হিংসার জেরে বিজেপি কর্মীদের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁরা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন।

রাজ্যে আইনের শাসন একেবারেই নেই। তাই সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে থাকাকালীন এই চিঠি পৌঁছাতে চলছে বলে খবর।

অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা সত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিজেপি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার দাবি তুলছে। রাজ্যে হাইকোর্টের নির্দেশে ইতিমধ্যেই ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফেরানো চলছে বলেও জানা যাচ্ছে।

বমিলিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে তীব্র চাপানউতোর চলছে, সে কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। পাশাপাশি এ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে ইতিমধ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিপুল ভোটে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেও যদি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়, তাহলে সার্বিক পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার ছাপ কিভাবে পড়তে চলেছে তা নিয়ে কিন্তু চিন্তা থাকছে।