ভোট পরবর্তী সময়ে জোট নিয়ে চাপে সিপিআইএম

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে জোট (Alliance) করে একটা বড়সড় চমক দেখাতে চেয়েছিল বাম (CPIM) নেতৃত্ব,প্রার্থী তালিকায় আনা হয়েছিল অনেক নতুন তরুণ তরুণী মুখ তবে তাদের এই প্রচেষ্টা একেবারেই মুখ থুবরে পড়েছে। কেবলমাত্র একটি আসনে জয়লাভ করেছে মোর্চা সমর্থিত আই এস এফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী জয়লাভ করেছেন ভাঙ্গড় থেকে।। বিধানসভায় এবারে কোন প্রার্থী পাঠাতে পারেনি বাম (CPIM) ও কংগ্রেস শিবির।

আরও পড়ুন: রাজ্যে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী সংঘাত তুঙ্গে

অভিযোগ উঠেছে ভোট-পরবর্তী হিংসায় বিপন্ন সিপিএম, আইএসএফ কর্মীরা, কিন্তু এই ব্যাপারে প্রায় সম্পূর্ণ নীরব আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। ভাঙড় নিয়ে তাঁরা কেন নিশ্চুপ? সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের বহু কর্মী সমর্থকরা। ধর্মনিরপেক্ষ সিপিএম কিভাবে আব্বাস সিদ্দিকীর মত ধর্মীয় নেতার সঙ্গে জোট করে, তা নিয়ে প্রথম থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে দেখা গিয়েছিল । গত, ২৮ সে ফেব্রুয়ারি বামেদের বিগ্রেড মঞ্চে আব্বাস সিদ্দিকীকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া, ক্ষুব্ধ হয়েছিল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্ভব হয়, হাতে- হাত রেখে কাজ করতে দেখা যায় জোটকে।

নির্বাচনের পরাজয়ের পর প্রায় ছন্দপতনের মুখে জোট। ভাঙড় এলাকায় অনেক সিপিএম, আইএসএফ কর্মীরা ভোট পরবর্তী হিংসায় ঘর ছাড়া, অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, বিধায়ক অফিস খোলার জন্য বাড়ি ভাড়া নিতে পারছেন না, এই পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে, দলের সাধারণ কর্মীদের পাশে নেই সিপিএম নেতারা।বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন অথচ ভাঙড় নিয়ে একেবারেই নিশ্চুপ ছিলেন যা অনেক কেই ক্ষুব্দ করেছে। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন দলের একাধিক কর্মীরা। অনেকে প্রশ্ন করেছেন দলের নেতারা কি করছেন? আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে সড়কপথে ভাঙ্গড় কতটা দূরে?

আরও পড়ুন: হঠাৎ বিদ্যুতের খুঁটির তার ছিড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল এক যুবকের

ভাঙড় ও আলিমুদ্দিনের দূরত্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু কর্মী সমর্থক । বিপদের দিনে দলের নেতারা কোথায় হারিয়ে গেছেন? সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শমীক লাহিড়ী জানিয়েছিলেন যে, ভাঙড় বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে সমস্ত কিছু জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বসে নেই তাঁরা। সমস্ত রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । তিনি আরো অভিযোগ করেছিলেন, ভাঙড়ে ব্যাপক সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ভাঙড় সম্বন্ধে সমস্ত কিছু জানেন।তবে এই বিষয়ে বেশির ভাগ নেতাই নিরব। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতে ক্ষোভ প্রকাশের পরেও এ বিষয় নিয়ে অনেকেই নিশ্চুপ আছেন। যার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে দলের সাধারণ কর্মীদের। অনেকেই কটাক্ষ করতে দেখা গেছে , এই জোট একেবারেই লোক দেখানো জোট, নির্বাচনে পরাজয়ের পর অস্তিত্বই বিলুপ্ত হতে চলেছে।

Click here for follow us on facebook — Ektara Bangla