স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার একই রাখলো কেন্দ্র

মনোরঞ্জন যশ, দুর্গাপুর :

দেশের ব্যাঙ্ক ও অন্যান ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের ওপর সুদ ছাঁটাই করার প্রবণতা দীর্ঘকাল যাবৎ ধরেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government)। এই নিয়ে সরব বিরোধীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এপ্রিল মাসে বিপুল হারে স্বল্প সঞ্চয়ে (Small Savings) সুদ কমানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। কিন্তু একদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এ সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয় রাতারাতি ।

আরও পড়ুন: রাস্তায় নামেনি বেসরকারি বাস দুই বর্ধমানেই ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা

সুদ কমানোর পথে হাঁটার পর থেকে আর সুদ বাড়ানোর পথে হাঁটতে লক্ষ্য করা যায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সাধারণ মানুষের স্বস্তি কিছুটা ধরে রাখতে পেরেছে এই সিদ্ধান্ত। সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন ঘোষণা। বুধবার রাতে মোদী সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে জানানো হয়,১ লা জুলাই থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের হার একই থাকবে।

আরও পড়ুন: আগামী কয়েক ঘন্টায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কলকাতা-সহ একাধিক জেলায়

এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একইভাবে সুদ কমানোর সিদ্ধান্তেই অটল রইল কেন্দ্রীয় সরকার। স্বাভাবিকভাবেই এটি মোদি সরকারের উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেখা যাচ্ছে, সেভিংস অ্যাকাউন্টে ডাক ঘরে সুদের হার বজায় রইল এই মুহূর্তে ৪%। ১থেকে ৫ বছরের মেয়াদী জমায় সুদ দেওয়া হবে ৫.৭% থেকে ৬.৭%।

আরও পড়ুন: হাসপাতালে ভর্তি বলিউডের দুই অভিনেতা দিলীপ কুমার ও নাসিরুদ্দিন

এনএসসি, পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড, কিষাণ বিকাশ পত্র এবং সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার ক্ষেত্রে সুদের হার যথাক্রমে ৬.৮%, ৭.১%, ৬.৯% এবং ৭.৬%।অপরদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের আয় যেমন কমেছে, একই সাথে পাল্লা দিয়ে কমেছে সঞ্চয়ের হার। অন্যদিকে নিত্যদিন পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস করে তুলেছে।

আরও পড়ুন: ছোটদের শরীরে সেরামের কোভোভ্যাক্সের ট্রায়ালের অনুমতি দিল না কেন্দ্র

এই অবস্থায় যদি স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার কমানো হতো, তাহলে দেশজুড়ে মানুষের ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হতো মোদি সরকারকে। সেই ঝুঁকি নিতে এই মুহূর্তে অন্তত মোদি সরকার নারাজ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যত বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার অন্যতম অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সাথে আগামী দিনে ভোটের কথাও মাথায় রাখা হচ্ছে।

Click here for follow us on facebook -- Ektara Bangla