বৃহস্পতিবার আউশগ্রামে নিহত যুবনেতার বাড়িতে আসছেন অনুব্রত মণ্ডল, খুনের তদন্তে আউশগ্রামে এলো সিআইডিও, তবে মামলা শুরু করেছে আউশগ্রাম থানা

রাধামাধব মণ্ডল :

কেন একদিন পর শুরু হল মমলা? দুই থানার টানাপোড়নেই কি একদিন গড়ালো মমলা শুরু হতে! উত্তর খুঁজছে আউশগ্রামের (Ausgram) মানুষ। খুন হওয়ার পর থেকেই আউশগ্রাম (Ausgram) ও বুদবুদ থানা নিজেদের এলাকা নিয়ে টানাপোড়ন শুরু করে বলে জানা যায়। যদিও আউশগ্রাম থানার পুলিশ নিজেদের মতো শুরু করেছিল তদন্ত। মৃতদেহ নিজেদের উদ্যোগেই পাঠিয়ে, বিশেষ ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে আউশগ্রাম থানাই। পুলিশসুত্রে খবর, দেরিতে অভিযোগ হয়েছে, তাই মামলা শুরু হতে দেরি হয়েছে। তবে তদন্ত আটকে ছিল না এও দাবি করেন পুলিশ আধিকারিকরা।

শেষে বুধবার বিকেলে মৃত চঞ্চল বক্সীর ভাই রাহুল বক্সী পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার কামনাশিষ সেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ পত্রে তেমন কোনো সন্ধেহ ভাজন ব্যক্তির নাম দেয়নি অভিযোগকারী বলে জানা যায়। আউশগ্রাম থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করার আগেই বুধবার সকালে গ্রামে ঢোকে সিআইডি-র একটি টিম। তারা খুন হয়ে যাওয়া অমরপুরের জঙ্গলে গিয়ে এলাকা চিহ্নিত করে। গ্রামে গিয়ে মৃত পরিবারের থেকে আলাদা আলাদা ভাবে বয়ান রেকর্ড করে। তাতেই জল আরও গড়িয়ে যায়। সিআইডি সুত্রে জানা যায়, শ্যামল শিকদার নামের সিআইডি-র একজন সাবইস্পেক্টর এদিনের টিমে এসেছিলেন। বুধবার রাতেই এমামলাটির দায়িত্ব নিতে পারে সিআইডি।

ঘটনাস্থলে তদন্তে সিআইডি

মঙ্গলবার দুপুরে গেঁড়াই থেকে বাইকে করে ফেরার পথে, খুন হলেন দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল বক্সীর ছেলে চঞ্চল বক্সী (৪২)। দুটি বাইকে করে তাদের পিছু ধাওয়া করে, চারজন দুষ্কৃতির একটি টিম। অমরপুরের বলরামবাটির মৌজার উলুগড়ির জঙ্গলে পিছু ধাওয়া করে শুট আউট করে তারা। ডাব্লিউ বি ৪০ এ সি, ২৪২৯ নাম্বারের বাইকে চড়ে গেঁড়াই গ্রামের অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ফিরছিলেন দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও তার ছেলে। দেবশালার প্রধান শ্যামল বক্সী গাড়ির পেছনে ছিলেন। গাড়িটা চালাচ্ছিল তার ছেলে দেবশালার দাপুটে যুব নেতা চঞ্চল বক্সী।

শ্যামল বক্সী সিআইডি আধিকারিকদের জানান, মোট দুটি বাইক থেকে চার জন দুষ্কৃতি পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। দু রাউন্ড গুলি গাড়িতে লাগে। আর তিন রাউন্ড গুলি লাগে যুবনেতার গায়ে।স্থানীয়সুত্রে জানা যায়, ভূঁয়েড়া গ্রামের প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী সেখ মহসিন নামের এক যুবক, দেবশালার প্রধান ও তার ছেলেকে জঙ্গলে পরে থাকতে দেখে ভিডিও তুলে ফেসবুকে দেন। আর পরে সে জানায়, কাছে গিয়ে দেখা যায় দেবশালার প্রধানের ছেলে চঞ্চল বক্সীকে গুলি করা হয়েছে। যদিও তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। পরে গেঁড়াই এর অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্স করে চাপিয়ে পথে নিয়ে যেতে যেতে চঞ্চল বক্সী মারা যায় বলে জানা যায়। পরে জামতাড়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চঞ্চলবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সিআইডি এই তথ্যও নিয়েছে।

নিহতের বাড়িতে স্থানীয় বিধায়ক

স্থানীয়সুত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে, দেবশালার টিএমসির অঞ্চল সভাপতি হেমাংশু মণ্ডল, দীর্ঘ দিন অসুস্থ ছিলেন। সেই দায়িত্ব চঞ্চল বক্সীই চালাচ্ছিলেন অলিখিত ভাবে বলে জানা যাচ্ছে স্থানীয়সুত্রে। সেই সঙ্গে অসুস্থ বাবা দেবশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তাই অলিখিত প্রধানের দায়িত্বও তিনি চালাচ্ছিলেন। সেই জন্য একটা শত্রুতা তৈরি হয়েছিলোই ভিতরে ভিতরে। সে কারণেই খুন কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পঞ্চায়েতের একাধিক কাজ নিয়েও বিবাদ শুরু হয়েছিল জানা যাচ্ছে স্থানীয়সুত্রে। স্ত্রী অনিন্দিতা বক্সীর বাপের বাড়ি বীরভূমের সিউড়ির কাছে পুরন্দরপুরের হাড্ডিতে। ২০ দিনের বাচ্ছা হয়েছে স্ত্রীর, পুত্র সন্তান বিবাহের ১২ বছর পর। বাবার মুখ দেখতে পেল না সেই দুধের শিশু।

বুধবার দুপুরবেলার অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ অভিযোগটি আউশগ্রাম থানায় পাঠায়, সেখানে ২৮৩/২১,৮/৯/২১ এ একটি খুনের মামলা রুজু করেছে। অনুষ্ঠান বাড়ির সিসি ক্যামেরা, এবং ভাতকুণ্ডা রাস্তার মোড়ের সিসি ক্যামেরাও পুলিশ তদন্তের স্বার্থে দেখছে। সেই সঙ্গে সুপারি কিলার দিয়ে খুন হয়েছে কি না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে আউশগ্রাম থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বন্দুক, জামা এবং গুলির খোকা পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। ছোড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি, কেশের আইও রণজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘তদন্ত শুরু হয়েছে। অবিলম্বে দোষীরা ধরা পড়বে। আমরা আউশগ্রাম জুড়ে তল্লাশি শুরু করেছি।”

দেহ ঘিরে স্থানীয়দের ভিড়

বুধবার বিকেলবেলা বর্ধমান মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ময়নাতদন্তের পর দেবশালায় গ্রামের বাড়িতে যুব তৃণমূল নেতা চঞ্চল বক্সীর দেহ পৌঁছালে শোকের ছায়া নামে। গ্রাম জুড়ে দেহ নিয়ে মিছিলে হাঁটেন আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্দার, প্রবীণ তৃণমূল নেতা আসগর সেখ, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলী, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি রামকৃষ্ণ ঘোষ, ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি সেখ আব্দুল লালন ও প্রবীণ নেতা ক্ষেত ঘোষরা। বুধবার সকাল থেকে দেহ সৎকার না হওয়া পর্যন্ত আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্দার মৃত যুবনেতার বাড়িতেই ছিলেন। এবং বুধবার আউশগ্রাম টু পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলী ও বিধায়ক অভেদানন্দ থান্দার মৃত যুবনেতার পরিবারের পাশে থাকার এবং পরিবারটির দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষনা করেন। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেলা ২ টোই আউশগ্রামের দেবশালাতে খুন হওয়া যুব তৃণমূলের নেতা চঞ্চল বক্সীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন আউশগ্রামের অবজারভার তথা বীরভূম তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

Click here for follow us on facebook — Ektara Bangla

error: Alert: Content is protected !!