আউশগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি ক্ষতিয়ে দেখতে জেলা শাসক, বিধায়ক । অজয়ের জলে প্লাবিত আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট

রাধামাধব মণ্ডল :

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম ২ নং ব্লকের রামনগরের বেশ কয়েকটি গ্রাম বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই অজয়ের বন্যায় প্লাবিত হয়। রামনগরের দেকুড়ি, পল্লীশ্রী, কুড়ুল, গোপালপুর কলোনির বিস্তৃর্ণ গ্রাম প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই এলাকা পরিদর্শনে আসেন বিডিও আউশগ্রাম ২ এর সঙ্গে এসডিও সদর। পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে রাতেই রামনগরের জলমগ্ন এলাকা থেকে স্প্রিড বোর্ড নামিয়ে মানুষ গুলোকে সরিয়ে আনা হয়, ছোড়া কলোনির এমএসকে ও নওপাড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

রামনগরের প্রধান সুকুমার আঁকুড়ে সহ এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আসগর সেখ, অর্ঘ্য বিশ্বাস, দেবদাস সরকাররা সারারাত্রি ছিলেন অজয়ের বাঁধে। পল্লীশ্রী, কুড়ুল গ্রামের ৭০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে প্রচুর জমির ধান। ভেসে গিয়েছে নৌকা ব্যবসায়ীদের ১০ টি নৌকা। কয়েকটি ছাগল ও ৮ টি গরু বলে জানান রামনগরের প্রধান।

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আউশগ্রাম ১ নং ব্লকের উক্তা পিচকুরির ফতেপুর গ্রাম, অজয়ের বন্যায় জলমগ্ন হয়ে পরে। জলবন্দি হয়ে যায় বেশ কয়েকজন মানুষও। তাদের দুর্যোগ মোকাবিলার বিশেষ টিম এসে উদ্ধার করে আনে, স্প্রিড বোর্ডে করে। তবে ২৫ টির মতো বাড়ি, কিছু গরু বাছুর ভেসে গেছে। মাঠের ধান এখনও ডুবে।

সারারাত অজয়ের জল বাড়লে শুক্রবার সকাল ৭ টা ২০ তে আউশগ্রাম ২ এর ভেদিয়ার সাঁতলার অজয়বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় বিস্তৃর্ণ এলাকা। আউশগ্রামের ভেদিয়ার কিছু অংশের সঙ্গে সাঁতলা, আওগ্রাম, সুন্দলপুর, ভিটি, বৈকুণ্ঠপুর জলমগ্ন হয়ে পরে। ৪০ টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষকে সরিয়ে এনেছে ভেদিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন। খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। রাখা হয়েছে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্প্রিড বোর্ড এবং টিম। শুক্রবারের আউশগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে এলাকায় আসেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসক শ্রীমতী প্রিয়াংকা সিংলা। তিনি বলেন, ‘কোনো ভয় নেই। প্রশাসন ও সরকার মানুষের পাশে আছে।

আমরা মানুষদের সরিয়ে নিয়ে এসেছি। জল নামলে বাঁধ বাঁধা হবে। স্প্রিড বোর্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ” আউশগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্দার। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত গুলো রাত জেগে কাজ করেছে। কোনো রকম অসুবিধা হবে না। ত্রিপল, শুখনো খাবার দেওয়া হয়েছে। আমরা নজর রাখছি। জল কমলে বাঁধ বাঁধানো হবে। দুই আউশগ্রামই ক্ষতিগ্রস্ত। ঘরবাড়ির সঙ্গে মাঠের ক্ষতি হবে বেশি।” এখনও উদ্বেগে রেখেছে অজয়। নতুন করে জল ছাড়ায় প্লাবিত আউশগ্রামের বিভিন্ন এলাকা। আউশগ্রাম ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলীসহ অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানও সদস্যরাও নেমেছেন মানুষের কাজে।

Click here for follow us on facebook — Ektara Bangla

error: Alert: Content is protected !!