নতুন তৈরি পিচ রাস্তা বাঁচাতে আদিবাসী আন্দোলন আউশগ্রামে

একতারা বাংলা, নিউজ ডেস্ক :

রব উঠছিল গত মাসের শেষের দিক থেকেই। কানাঘুষা সে খবর পৌঁছেছে সরকারি দপ্তরেও। কিন্তু সবাই চুপচাপ! রাস্তায় ভারি যানবাহন চলাচল করা নিষেধ। সেই মর্মে বোর্ড লাগিয়ে ছিল আউশগ্রাম টু ব্লকের, রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর থেকে মালিয়াড়া যাওয়ার রাস্তায়। এম জি এন আর এস প্রকল্প থেকে নির্মিত হয়েছে পাকা পিচ ঢালা রাস্তাটি। হঠাৎ কী করে সেই বোর্ড গেল হারিয়ে প্রশ্নটা অনেকের! কে উত্তর দেবেন? মুখে কুলুপ লাগিয়ে বসেছেন, প্রশাসন! বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারাও প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না!

গত বিধানসভা ভোটের আগে আউশগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের অবজারভার বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে, যমুনাদিঘির সভায় চারটি পাকা রাস্তা তৈরির দাবী জানায় রামনগর অঞ্চলের স্বকীয় তৃণমূলের নেতা, কর্মীরা। তাদের দাবীকে মান্যতা দিয়ে, জেলা প্রশাসন তড়িঘড়ি চারটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করতে লাগে। পুবার, মালিয়াড়া, নওয়াপাড়া এবং পাথরকুচি ডাঙাপাড়াতে সেই রাস্তা নির্মিত হয়।

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর, মালিয়াড়ার রাস্তায় বালি ঘাটের লড়ি চালু হলে একদিন চলার পর বন্ধ করে দেয়, মালিয়াড়া গোপালপুরের আদিবাসীরা সমবেত হয়ে। সেখানকার স্থানীয়সুত্রে খবর, বালি ঘাট চলুক। আমাদের তাতে কোনো বিরোধ নেই। তবে যে দিকে তুলছিল বালি সেই রাস্তা ছেড়ে আমাদের ভালো রাস্তায় এলে, আমরা রাস্তা নষ্ট করতে দেব না। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করতে দেব না। এই নিয়ে স্থানীয় ভাবে রাতে কে বা কারা রামনগর, খটনগর বাজারে রাস্তা বাঁচানোর ডাক দিয়ে পোস্টারিংও করে।

তাতে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের যাতায়াতের অসুবিধার কথাটিও উল্লেখ থাকে। এই ঘটনায় সোরগোল পরে যায় এলাকায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত এলাকার খটনগর, রামনগর, মালিয়াড়া, গোপালপুর, কুড়ুল এলাকার ছাত্র ছাত্রীরাও নিয়মিত এই রাস্তায় যাতায়াত করে, সারাবছর। বালির গাড়ি চললে তাদেরও চরম অসুবিধায় পড়তে হয়, বলে জানায়। এসব কথাও প্রতিবাদী পোস্টারিং এ উঠে এসেছে। ডিভিসি ক্যানেলের উপর মালিয়াড়া যেতে একটি ভগ্ন সেতু রয়েছে রাস্তায়।

সেটিরও হাল খারাপ। স্থানীয় রামনগর পঞ্চায়েতের মালিয়াড়া গ্রামের সদস্য নিশিকান্ত ঘোষ বলেন, “কে বা কারা পোস্টারিং করেছে আমি জানি না। আর আমি জানি, বালিঘাট বন্ধের কোনো বিষয় নয়। এটি রাস্তা রক্ষার লড়াই করছে সমবেত গ্রামবাসীরা। জলভরা বালির গাড়ি রাস্তার উপর গেলে, রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে, কয়েকটি জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। এই জন্য মানুষ লড়াই করছে, পুলিশ কিছু বলে না। পঞ্চায়েত, প্রশাসন, পার্টির কেউ এবিষয়ে নেই। এটা জনগণের লড়াই। এর বেশি কিছু আমি জানি না।”

স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবব্রত মণ্ডল, নিতাই বিশ্বাসরা বলেন, “মানুষের রাস্তা বাঁচানোর আন্দোলনে আমরা আছি। যে দলের বিরুদ্ধে যাবে, তাকে বহিস্কার করা হবে। এখানে কোনো দল নয়। মানুষ লড়ছে।” এই ঘটনায় শোরগোল পরে গেছে এলাকায়। প্রশাসন বলছে, গ্রামের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই রাস্তায় বালির গাড়ি চালানো যাবে। তা ছাড়া কিছু করা যাবে না।”
ডি ভি সি ক্যানেল সুত্রে খবর, অবিলম্বে তারা তাদের ভগ্ন ব্রিজের উপর নিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ব্যবস্থা করবে। তা না হলে, যে কোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” রাস্তায় এখনও বালির গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

Click here for follow us on facebook — Ektara Bangla