উল্লেখযোগ্য ভিড় সংখ্যা লঘু মহিলাদের, ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে জনজুয়ার!

রাধামাধব মণ্ডল :

এখনও কেন এতো মানুষ আসছেন? দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প গুলোতে মহিলামহলের ভিড়ই বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু কেন? তাহলে কী বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কে ধস! উয়াকিবহাল মহলের তেমনই বক্তব্য। হিন্দুদের মহিলাদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ভাবে ভিড় বেড়েছে সংখ্যালঘু পরিবারের মহিলাদেরও! তাহলে কী তারা বিজেপি করতো। এতোদিন পরিসেবা নিতে আসেনি চক্ষু লজ্জার ভয়ে? এখন আসছে। এমনটা একেবারেই অমূলক নয়। তবে মূলত উদ্বাস্তু কলোনির মহিলাদের একটি বড় অংশ আসছেন চক্ষু লজ্জা, গোঁয়ার তুমি কাটিয়ে। সরকারি পরিসেবা নিতে। তবে এই ক’ মাসে অনেক বিবাহের ঘটনা ঘটেছে। তাদের একটি অংশ আসছে লক্ষ্মী ভাণ্ডার করাতে।

বিজেপি র মোহ কাটিয়েও আসছেন অনেকে। এছাড়াও সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের একটি স্কিম বেশ জনপ্রিয় হয়েছে এলাকায়। সেই স্কিম ঐক্যশ্রী তে আবেদনের জন্যই দলে দলে সংখ্যালঘু গ্রাম থেকে মহিলারা, ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই এসে দাঁড়িয়েছেন দীর্ঘ লাইনে। মমতার দুয়ারে সরকারই এবারও ২০২৩ এর পঞ্চায়েতের ভোটে গ্রাম বাংলায় বাজিমাত করবে, বলছে রাজনৈতিক মহল।

সেইসঙ্গে প্রতিদিনই বিজেপি তে শীর্ষ নেতাদের ভাঙ্গন লেগেই আছে। চলছে গোষ্ঠী কেন্দোল। এতেই পূর্ব বর্ধমানের বিজেপি ২০১৯ এ তৈরি হওয়া সংগঠন একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতেই আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত মিলছে। তবে ইতিমধ্যেই মমতার নির্দেশে জেলায় জেলায় পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক সম্মেলন। তাতেও মমতার অবজারভারের ভূমিকা নিয়ে সাংগঠনিক স্তরের খোঁজ রাখছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোনা যাচ্ছে জেলা ও ব্লক স্তরের নেতৃত্বের রদবদল নিয়ে কিছু নির্দেশও রয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে একেবারেই কেউ মুখ খুলছেন না প্রকাশ্যে।

পূর্ব বর্ধমান জুড়ে দলীয় স্তরে রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তার আগেই দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প। মানুষের জন্য সরকারি প্রকল্প আর সংগঠনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষকে সামনে আনতেই তৃণমূলের ভেতরে শুরু হয়েছে জল্পনা। এবার কী পূর্ব বর্ধমানের সংগঠনের সঙ্গে যাবে আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট? মুখে কিছু বলছেন না নেতারা। তবে কান পাতলেই গুঞ্জন। এদিন সকাল থেকে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম টু ব্লকের রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুয়ারে সরকারের চতুর্থ বারের প্রথম দিনের ক্যাম্প শুরু হল। বুধবারের এই ক্যাম্পে এসেছিলেন বহু মানুষ। আউশগ্রাম টু ব্লকের অধীনে রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাণ্ডুক দীননাথপুর বাজার এলাকার পি পি ডি হাইস্কুলে হয় ক্যাম্পটি। এদিনের ক্যাম্পে উপচে পরে ভিড়, সরকারি এমন প্রকল্পদানে খুশি সকলেই।

মূলত মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পরার মতো। ২৪ টি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা দেওয়া হয় এদিনের ক্যাম্পে। পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা হয় পৃথক পৃথক ক্যাম্প। এদিনের ক্যাম্পে ঐক্যশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মী ভাণ্ডারের জন্য দীর্ঘ লাইন, গরমকে উপেক্ষা করে। সরকার মানুষের দুয়ারে। মমতার জয়জয়কার, মানুষের মুখে মুখে! তবে বহু নেতৃত্বের নামের সঙ্গে রয়েছে প্রশ্নচিহ্ন! মানুষের প্রকল্পদানে তারা কী বাধা হয়েছিল? তা না হলে, এতো ভিড় কেন! রামনগরে এমনটা করেনি, বলছেন সাধারণ মানুষ। এখানে অতীতে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটিয়ে ছিল সিপিআইএম। তাদের এবং প্রাচীন নকশাল বাদীদের একটি প্রভাব রয়েছে। তবে তৃণমূলের জনমুখী কাজে সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিচ্ছিন্ন করেছে সিপিআইএম, বিজেপিকে।

এই দিনের ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুকুমার আঁকুড়ে, উপপ্রধান সেখ জিয়াউল হকসহ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী আসগর সেখ, আউশগ্রাম টু পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলী, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্যা কাকলি রাজা, অর্ঘ্য বিশ্বাস, দেবদাস সরকার প্রমুখ। তারা দাঁড়িয়ে মানুষের কাজ করে দেন।

এদিনের ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের আউশগ্রাম থানার ছোড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি প্রচার ট্যাবলো। সেখানে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে, পণপ্রথার বিরুদ্ধে এবং নানান সরকারি আইন নিয়ে প্রচার করা হয়। ছোড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কয়েকজন পুলিশ কর্মীও এদিনের দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন ছোড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আই সি পঙ্কজ নস্কর।

বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি, ঝড় এবং বজ্রগর্ভ মেঘের ঘনঘটা শুরু হয়। আতঙ্কিত হয়ে পরেন মানুষজনরা। অনেকেই প্রাণভয়ে আশ্রয় নেন স্কুলের ভেতরে।
পি পি ডি হাইস্কুলের চত্বর বৃষ্টির জলে টইটুম্বুর হয়ে যায়। তখনও এলাকার সংখ্যা লঘু মহিলাদের দীর্ঘ লাইন। ঐক্যশ্রী ভাতার জন্য ঝড়, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই দাঁড়িয়ে ছিলেন স্কুল পড়ুয়াদের দল। রামনগরের প্রধান তাদের সহযোগীতা করে স্কুলের ক্লাস রুমে আটকে ধীরে ধীরে ফর্ম ফিলাপ করান।

প্রবল বৃষ্টি দুয়ারে সরকারের ক্যাম্প চলা কালিন। তাতেও মানুষের দীর্ঘ লাইন। রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতটি আউশগ্রাম টু ব্লকের জঙ্গলমহলের একটি দীর্ঘ পঞ্চায়েত।
বুধবারের এই ক্যাম্পে পুবার, পাণ্ডুক, উল্লাসপুর, গোপালপুর, জালালপুর, দীননাথপুর, রামনগর, দেরিয়াপুর, মালিয়াড়া, খটনগর, মল্লিকপুর, গোস্বামীখণ্ড, গোপালপুর কলোনি, রামনগর, হাটমাধবপুর গ্রাম গুলি নিয়ে ক্যাম্পটি অনুষ্ঠিত হয়। এমাসের ৩০ তারিখে রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বিতীয় ক্যাম্পটি হবে, ছোড়া কলোনির এফ পি স্কুলে। সেদিন পঞ্চায়েত এলাকার জঙ্গলমহলের গ্রাম গুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পটি।
এবিষয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ আসগর সেখ বলেন, সরকারের এমন কাছে মানুষ খুশি। সরকার যেন মহাকরণকে দুয়ারে দুয়ারে নিয়ে এসেছে, উন্নয়ণের জন্য।

পড়ুয়া হাসমোতারা খাতুন বলেন, আমাদের খুব আনন্দ। সরকার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এবিষয়ে আউশগ্রাম টু পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, ‘আমাদের সরকার মানুষের জন্য কাজ করছেন। জনমুখী প্রকল্পতে সকলেই খুশি। প্রচুর মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। তাই এতো ভিড়। ঝড় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মানুষ ক্যাম্পে আসছেন।’
যদিও এবিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুকুমার আঁকুড়ে বলেন, “বৃষ্টির দিন বলেই স্কুল বিল্ডিং এর ভেতরে করা হয়েছে ক্যাম্পটি। মানুষ যাতে কষ্ট না পায়। তবুও ঝড় বৃষ্টিতে বহু মানুষ কষ্ট পেয়েছেন। তাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি। “

Click here for follow us on facebook — Ektara Bangla